চাঁদপুরে প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে চলছে বাল্যবিবাহ।

আপডেট : July, 16, 2017, 8:54 am

বিশ্বজিৎ নাথ: চাঁদপুরে প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে চলছে বাল্যবিবাহ। সরকারের বাল্যবিবাহ রোধ প্রকল্প হাতে থাকায় অনেকটা গোপনে এক শ্রেণির কাজির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ দেওয়া হচ্ছে ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীদের। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির ভর্তি তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় গ্রাম পর্যায়ে ১০ম শ্রেণিতে পৌঁছা পর্যন্ত শিক্ষার্থী প্রায় অর্ধেক হ্রাস পায় যার অধিকাংশই ছাত্রী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান প্রতি বছর গ্রাম পর্যায়ের প্রতিটি বিদ্যালয়ের গড়ে ৫০ জন শিক্ষার্থী বাল্য বিবাহের শিকার হচ্ছে। বিদ্যালয়ের রেকর্ড পত্রে আঠারো বছর পূর্ণ না হলেও ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট বানিয়ে সারা হচ্ছে বৈবাহিক কার্যক্রম। এলাকা ও প্রশাসনিক ঝামেলা এড়াতে একেবারেই পারিবারিকভাবে নতুবা দুরের কোন আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়। এমন বিয়ের ব্যাপারে কাজীর সহযোগীতা পেতে হলে অনেক টাকা মূল্য হিসাবে দিতে হয় কাজীকে। এসব বিয়ের যেমন আইনি বৈধতা থাকে না তেমনি ডিভোর্সের মত ঘটনা ঘটলে মেয়ে পক্ষ পায় না ক্ষতিপূরণ। এক কাজীর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি জানান, আমাদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসলে আমরা তার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেখি। যদি আঠারো বছর পূর্ন হয় তবেই আমরা বিয়ে পড়াতে সম্মত হই। যদি তা ঘষামাজা জন্ম নিবন্ধন হয় তখন অভিভাবকের চাপাচাপিতেই আমরা বিয়ে পড়াই। তখন আমরা বলেই রাখি এ বিয়ের আইনি বৈধতা নেই। তিনি আরো জানান, যদি ইউনিয়ন পরিষদ জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ পরিবর্তন না করায় তাহলে বাল্য বিবাহ রোধ করা সম্ভব এবং তা অনেকাংশ হ্রাস পাবে।পাশাপাশি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন তিনি।

Facebook Comments

103331
Total Users : 3331