মহম্মদপুরে নারী নির্যাতনকারী প্রতারক পুলিশ আটক

আপডেট : July, 4, 2017, 10:48 am

মাহামুদুন নবী(স্টাফ রিপোর্টার)খবর বাংলাদেশ:- মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামের মো: রেজাউল ইসলাম নামে এক নারী নির্যাতনকারী ও প্রতারনাকারী পুলিশ কনস্টেবল আটক হয়েছে। ২১ জুন বুধবার মাগুরা জজকোর্টে হাজিরা দিতে আসলে বিজ্ঞ আদালত তাকে আটকের নির্দেশ দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করেন। আটককৃত রেজাউল পাল্লা এলাকার মো: আমির হোসেন খানের পুত্র ও বাংলাদেশ পুলিশে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। যাহার পরিচয় নং(এস.এ এফ)কং ৪০৩ ।

সুত্র জানায়, রেজাউল ইসলাম ২০১২ সালে একই এলাকার মো: শামসুল হকের ২য় কন্যা শানজানা আফরোজ আশার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর থেকেই সে ও তার পরিবারের সদস্যরা তার স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করতে থাকে। ঘরে ২ বছরের নওরিন নাহার নামের একটি কন্যা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিরবে সইতে থাকে স্বামির পাশবিক নির্যাতন।
এরপর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মেহেরপুরে চাকুরিরত অব¯’ায় মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মো: তাহাজুদ্দিনের কন্যা শ্যামলি খাতুনকে ২০১৫ সালে নিজেকে দারোগা পরিচয় দিয়ে ২য় বারের মত বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পরে বিষয়টি ১ম স্ত্রী শানজানা আফরোজ আশা জানতে পেরে স্বামীর কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়ায় সে ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।পরে শানজানা আফরোজ আশা মাগুরা জজকোর্টে ১৭ই এপ্রিল নারি ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দ্বায়ের করে । মামলা করার পর রেজাউল ও তার পরিবারের লোকজন শানজানা আফরোজ আশা এবং তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এছাড়া শানজানা আফরোজ আশা ও তার পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দ্বায়ের করে ।

রেজাউলের প্রতারনার ব্যাপারে মেহেরপুরের কুতুবপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: ইদ্রিস আলী জানান,রেজাউল একজন অবিবাহিত পুলিশের দারোগা পরিচয় দিয়ে ৭ লক্ষ টাকা যৌতুক নিয়ে তার এলাকায় বিয়ে করেন । এছাড়া সে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পরও যখন ২য় স্ত্রীকে রেজাউল তার বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়না বা নেয়নি। পরে যৌতুকলোভি রেজাউল আরো ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে টাকাটা আনতে গেলে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয় এবং তারা তাকে মারধর করে আটকে রাখে এবং পুলিশে সোপর্দ করে। তবে বিয়ের কিছুদিন যেতেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে তার আগের পক্ষের একটি বউ ও সন্তান রয়েছে।
বর্তমানে শানজানা আফরোজ আশা শিশু সন্তানকে নিয়ে পিতার বাড়িতে অব¯’ান করছেন।

এ ব্যাপারে শানজানা আফরোজ আশা বলেন,বিয়ের পর ৩-৪ মাস ভালই চলছিল তাদের সংসার এরপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তার পিতার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। গরিব ও অসহায় পিতার নিকট থেকে টাকা এনে দিতে অস্বিকার করায় শুরু হয় তার উপর অকথ্য পাশবিক নির্যাতন । শুধু সে একাই নয় তার পরিবারের লোকজন ও তার উপর নানাসময়ে অত্যাচার চালাতে থাকে যৌতুকের জন্য। এমন যৌতুকলোভী স্বামির দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছে শানজানা আফরোজ আশা ও তার পরিবারের লোকজন।

Facebook Comments

103331
Total Users : 3331