শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে পেনসেল্ভেনিয়া বিএনপিকে বিভাজন মুক্ত করার উদাত্ত আহবান

আপডেট : June, 18, 2017, 8:32 am

রিপোর্টঃ এম.এ. কালাম (শরীফ): গত ১১ জুন রবিবার পেনসেল্ভেনিয়া ষ্টেট ফিলাডেলফিয়ার সেন্টার সিটির স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইফতার মাহফিল এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির বলিষ্ঠ নেতা রফিকুল আমিন ভুঁইয়া (রুহেল)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ওয়াশিংটন ডিসির প্রাক্তন বিএনপির সভাপতি শরাফত হোসেন (বাবু)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ল্যান্সডেল বিএনপির অন্যতম নেতা এস আলম মিন্টু।

সন্ধ্যা ৭টায় সাইয়েখুল ইসলামের কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান টি শুরু হয়। তাতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেলবোর্ন কাউন্টির দ্বিতীয়বারের মতন বিপুল ভোটে বিজয়ী কাউন্সিলম্যান মনসুর আলী মিঠু, আপার ডার্বি ৭ম ডিসট্রিক্ট কাউন্সিলম্যান ডঃ শেকেলা কোলস, বিটিএসপির প্রাক্তন সভাপতি মোঃ হায়দার আলী, ল্যান্সডেল বিএনপির প্রাক্তন সভাপতি এডভোকেট হাফিজুর রহমান বুলবুল, আব্দুর রহমান শাহীন, আবদুল কাদের বিশ্বাস, মাহতাব উদ্দিন মিথু, বিএসপির প্রেসিডেন্ট ইফতেখার হোসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তাদের মধ্য থেকে শ্রদ্ধাভাজন বিএনপি নেতা এবং বিগত জোট সরকারের আমলের সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের তীব্র সমালোচনা করা হয়। বিগত ২ বছর আগে জনাব মিলন পেনসেলভেনিয়া বিএনপির কমিটি করার কাজে এসেছিলেন। উল্লেখ্য যে, উক্ত বিতর্কিত কমিটি করার দায়ে মিলন সাহেব স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন এবং তার একক স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারনে দেশে বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ২০১৫ সালে পেনসেল্ভেনিয়া বিএনপি কমিটি করতে এসে একজন আওয়ামী-জামায়াত এর গুপ্তচর হিসেবে পরিচিতজনাব শাহ ফরিদের পক্ষ নেন এবং অপর প্রার্থী যোগ্য হওয়া স্বত্বেও তাঁকে বিভিন্ন কৌশলে কমিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে অযোগ্য ঘোষনা করেন। অতঃপর তিনি তার আশীর্বাদপুষ্ট জনৈক শাহ ফরিদ কে সভাপতি ঘোষণা করে একটি পকেট কমিটি তৈরি করে দ্রুত স্থানত্যাগ করেন।স্থানীয় বক্তারা বলেন, “ শাহ ফরিদ শুধু গুপ্তচর বৃত্তি করেন না, সেই সাথে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ব্যাপক প্রমাণাদি তাদের কাছে রয়েছে।”

উল্লেখ্য যে, জনাব ফরিদ আওয়ামী জামায়াত এর নেতাদের সাথে আঁতাত করেছেন, যার জোরালো প্রমান স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে বিদ্যমান। উক্ত ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মী গন তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, তারা মিলন সাহেবের মতন এমন সজ্জন ব্যক্তির কাছ থেকে এইরূপ পক্ষপাতিত্বমূলক কাজ কখনোই আশা করেন নি। মিলন সাহেবের চলে যাবার পর এক দিন পরেই জনাব ফরিদ একক স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বলে ১০১ কমিটি বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন, যেখানে ৯৯% সদস্যই আওয়ামী জামাত পরিবারের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় নেতাকর্মীরা উক্ত ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে যখন শাহ ফরিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন কমিটির ব্যাপারে, তখন তিনি এর সদুত্তর না দিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন এবং অনেক কর্মীদের কুরুচিপূর্ণ ভাষায় তিরস্কার করেন। কর্মীদের প্রশ্নে তিনি দম্ভের সাথে বলেন, তিনি একমাত্র তারেক রহমানের কথা শুনেন এবং তার কথা অনুযায়ী কাজ করেন, পৃথিবীর কেউ তাঁকে তার পদ থেকে সরাতে পারবে না। স্থানীয় এক সাংবাদিক শাহ ফরিদকে প্রশ্ন করেন যে আপনি কিভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নিজে নিজে কমিটি গঠন করলেন, এর প্রত্যুত্তরে শাহ ফরিদ বলেন, আমার যা পাওয়ার আমি পেয়ে গেছি, তিনি হুংকার ছেড়ে বলেন, “আপনারা যা করার পারলে করেন”। তিনি আরো বলেন তিনি বাংলাদেশের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপির সাথে লবিং রেখেছেন, সেজন্য তিনি মনে করেন তাঁকে কেউ তার পদ থেকে সরাতে পারবে না।

স্থানীয় বিএনপির সকল নেতাকর্মী একযোগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে বিতর্কিত শাহ ফরিদের যে কোন অনুষ্ঠান তারা বয়কট করবেন এবং শক্ত হাতে সেগুলো প্রতিহত করবেন। স্থানীয় নেতাগন জনাব মিলনের পুনরায় আগমনের অপেক্ষায় আছেন এবং তারা মনে করেন মিলন সাহেব অচিরেই তার ভুল বুঝতে পেরে আগের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে গনতান্ত্রিক উপায়ে সত্যিকারের বিএনপির কমিটি গঠন করতে উদ্যোগী হবেন।মিলন সাহেবের কাছে সকল নেতাকর্মী উদাত্ত কণ্ঠে আহ্বান জানান যে মিলন সাহেব যদি প্রকৃত অর্থেই গনতান্ত্রিক উপায়ে সত্যিকারী ত্যাগী নেতাকর্মী দের মাধ্যমে কমিটি গঠন করেন, তবে তারা জনাব মিলনের যে কোন সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানাবেন।

 

Facebook Comments

103331
Total Users : 3331