সারিয়াকান্দিতে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার পরিবারের দুর্ভোগ চরমে

আপডেট : July, 3, 2017, 12:21 pm

এম তাজুল ইসলাম, (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বৃষ্টির পানি নিস্কাসনের সুঃব্যবস্থা না থাকায় ১হাজার পরিবারের সদস্যদের রাস্তা পারাপারের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে! চিত্রটি ফুটে উঠেছে, উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের পূর্বপাড়া নামক স্থানে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই যোগাযোগ সড়কের বেহাল দশার চিত্র দীর্ঘদিনের। সংস্কারের নেই কোন কারও মাথা ব্যাথা। পুরো সড়ক জুড়েই খানা খন্দকে ভরপুর। বহু কষ্ট আর ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে কাদামাখা শরীরে পানি পেড়িয়ে শত শত শিক্ষার্থীকে স্কুলগামী আর হাজার হাজার অসহায় লোকজনকে বাজারমুখী ও ক্ষেত-খামারমূখী হতে দেখা যায়। পানি বন্দি এলাকা ঘুরে শুনা যায়, রাস্তার দু’পাশে বাড়ি ঘর নির্মাণ করার কারনে রাস্তাটি নিচু হয়ে গেছে। পানি নিস্কাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে ফজেল, আমছার, আব্দুর রহিমের উঠান বাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। এখানে নামে মাত্র বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি বৃষ্টির পানিতে হাবু-ডুবু খায়। রাস্তাটি আবার পূণরায় স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসতে কমপক্ষে ১০-১৫দিন সময় লাগে। এর মাঝে বৃষ্টি হলে তো কোনো কথাই নেই ! গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে রাস্তাটি জলবদ্ধতায় পরিণত হয়। দিসকুল না পেয়ে বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প লাগিয়ে পানি নিস্কাসন করা হয় । অনেকেই রাস্তার দুই পাশে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা না রেখে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করাকেই দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে কয়েক জনের সাথে কথা হলে প্রত্যেকেই গণমাধ্যমকর্মী এম তাজুল ইসলামকে জানান, এই রাস্তা দিয়ে ইউনিয়নের বাঁশহাটা গ্রামের সাথে জোড়গাছা গ্রামের যোগসূত্র। এ রাস্তা দিয়ে দুই গ্রামের হাজার হাজার লোকজন চলাচল করে। উত্তর পার্শ্বে আমাদের অনেক কৃষি খামার (জমি) রয়েছে। সেখানে হরেক রকমের ফসল উদপাদন হয়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকার কারনে আমরা উদপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করতে পারছি না। অটো চালক ওমর ফারুক বলেন, “আমাদের এ পাশে আমার সহ প্রায় পাঁচ-সাতটি প্রাকৃতিক গ্যাস চালিত সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান গাড়ি আছে। এগুলোর উপর নির্ভর করেই আমাদের সংস্কার চলে, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হয়। এখানে রাস্তার উপর হাটু পানি জমাট বেধে থাকার কারনে গাড়ি পারাপার করতে পারিনা। ফলে সে কয়দিন আমাদের বাড়িতে উনুনে আগুন জ্বলে না।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বলেন, আমরা পরস্পর শুনেছি রাস্তাটি উচু করার জন্য সরকারি বরাদ্দ এসেছিল। স্থানীয় নেতাকর্মী এবং ইউপি সদস্যরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে। এদিকে, শিক্ষার্থীর কথা ভাবতে না ভাবতেই জোড়গাছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীকে পায়জামা গুটিয়ে কাঁদামাখা পানি পার হতে দেখা যায়। এ বিষয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, রুমানা, সুলতানা, সানজিদা, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রি নাছিমা ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তানজিলা আক্তার বলে, বর্ষা মৌসুম এলেই এখানে রাস্তার উপর হাটু পানি হয়। আমরা পড়নের পায়জামা গুটিয়ে এক হাতে স্যান্ডেল এবং অন্যহাতে বই নিয়ে পানি পারাপার হই। এতে করে হঠাৎ আমাদের বই, খাতা, কলম পানিতে তলিয়ে যায়, তাছাড়া কোনো কোনোদিন গর্তের মধ্যে পা পিচলে গিয়ে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সেদিন স্কুলে যাওয়া হয় না। এতে করে আমরা সেদিনের পড়া থেকে পিচিয়ে পড়ি। আমরা এ দুর্ভোগ থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চাই।” এ বিষয়ে পূর্ব পাড়া ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মাফুজার রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জোড়গাছা সাংগঠনিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও ভুক্তভোগী মোঃ সিরাজুল হক সিরাজের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “রাস্তাটি আমাদের তথা জোড়গাছা পূর্ব উত্তর পাড়া লোকজনের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এ সড়ক ছাড়া জোড়গাছা বাজার, সারিয়াকান্দি উপজেলা শহর ও বগুড়া জেলা শহরের সাথে বিকল্প যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই। এলাকাবাসীর সাথে একমত হয়ে রাস্তাটি অতি দ্রুত চলাচলের উপযোগীর পাশাপাশি পাকা করণের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যের কাছে জোরদাবী জানাচ্ছি।” এ ব্যাপারে ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রুবেল উদ্দীনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, চলাচলের জন্য এ রাস্তাটি মেরামত করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে। কিন্তু মাটির অভাবে বর্তমানে এই সমস্যাটি সমাধান করা দুসাধ্য হয়ে পড়েছে। চেলোপাড়া-চন্দনবাইশা মেইন রাস্তার সমপরিমাণ উচু করতে গেলে অনেক মাটির প্রয়োজন। প্রাথমিক প্রর্যায়ে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা করার জন্য দুই পাশে ড্রেন অথবা বড় গর্তের ব্যবস্থা চেয়ে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি। আগামীতে কোনো প্রযেক্ট আসলেই রাস্তাটি পূর্ণ সংস্কার করা হবে। আমি রাস্তাটি পূর্ণ সংষ্কারের পাশাপাশি জোড়গাছা পূর্ব পাড়া হতে বাঁশহাটা বাঙ্গালী নদী পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা করণের জন্য জাতীয় সংসদ সদস্য , কৃষিবিদ জনাব আব্দুল মান্নানের কাছে জোরদাবী জানাচ্ছি।

Facebook Comments

103331
Total Users : 3331